Join Whatsapp Group(38) Join Now

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নিয়ম পরিবর্তন! যারা এখনো টাকা পাননি, দ্রুত এই কাজগুলো করে নিন।

কেন্দ্রীয় আবাস যোজনা কি?

কেন্দ্রীয় আবাস যোজনা বা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা হল এমন একটি প্রকল্প যার মাধ্যমে দেশের প্রায় দুই কোটিরও বেশি পরিবারের জন্য বাড়ি দেওয়া হবে। অনেক বাড়ি ইতিমধ্যেই তৈরি হয়ে গিয়েছে এবং বেশ কিছু বাড়ির কাজ এখনো চলছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ৮২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জন্য। ৪৯ লক্ষেরও বেশি গ্রাহকের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্র সরকার থেকে ১১ লক্ষ ৩৬ হাজার বাড়ি তৈরি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। তবে কারা কারা বাড়ি পাবেন তাই নিয়ে বেশ কড়া নিয়ম লাগু করেছে কেন্দ্র সরকার এবং রাজ্য সরকার উভয়ই। কোন কোন যোগ্যতা থাকলে টাকা পাওয়া যাবে এবং কোন কোন কারণগুলির জন্য বাড়ি তৈরির টাকা পাওয়া যাবে সেই মর্মে একটি ১৫ দফার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল নবান্ন। গত কয়েকদিন আগে কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রক থেকে রাজ্য সরকারের মুখ্য সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা টাকা পাবার জন্য আধার লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক। পূর্বে যারা বাড়ি পেয়েছেন এবং যাদের বাড়ি তৈরির কাজ চলছে তাদেরও আধার লিঙ্ক করতে হবে।

আবাস যোজনা প্রকল্পের অন্তিম তারিখ কবে?

৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তিম তারিখ বরাদ্দ করা হয়েছে এই ডাটা কালেক্ট করার জন্য। স্লথ গতিতে এগোচ্ছে কাজ, তারই মধ্যে আধার লিঙ্ক করার নির্দেশিকা পেয়ে উদ্বেগ বেড়েছে রাজ্য সরকারের।

আবাস যোজনা প্রকল্পের ভেরিফিকেশন কিভাবে হচ্ছে?

আবাস যোজনার বাড়ি কারা পাবেন সেই সংক্রান্ত ভেরিফিকেশনের জন্য বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভিডিও, SDO, থানার আইসি। তার আগেই বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন রকম তথ্য ও নথি সংগ্রহ করছেন আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সিভিক ভলেন্টিয়ার ও পঞ্চায়েত কর্মীদের টিম। সামনে পঞ্চায়েত ভোটের আগেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় সরকার।

আবাস যোজনা সম্পর্কিত কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা:

সরকারি নির্দেশিকা বলা হয়েছে যত শীঘ্র সম্ভব প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PM Abas Yojna) ন্যায্য প্রাপকদের নামে তালিকা তৈরি করে ফেলতে হবে। ডিসেম্বর মাসের 31 তারিখের মধ্যেই আবাস যোজনা সংক্রান্ত সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তিনটি স্তরে ভেরিফিকেশন (Three stage verification) প্রক্রিয়া চলবে যাতে করে কোন রকম দুর্নীতি না হয়। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নাম নিয়ে এই প্রকল্প শুরু হলেও পশ্চিমবঙ্গে এই নাম বদলে বাংলা আবাস যোজনা (Bangla Abas Yojna) করা হয়। সেই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন চলে ও আবাস যোজনার টাকা দেওয়া বন্ধ করা হয়। দীর্ঘ 8 মাস পরে কেন্দ্রীয় সরকার আবার আবাস যোজনা টাকা দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছে। আবাস যোজনা প্রকল্পে মোট বরাদ্দ অর্থের ৬০ শতাংশ ব্যয় কেন্দ্র সরকার বহন করে। বাকি ৪০ শতাংশ রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। তবে কেন্দ্র সরকারের থেকে ৬০ শতাংশ টাকা পেতে গেলে ১৫ দফা শর্ত পূরণ করতে হবে রাজ্যকে।

কারা কারা PM Awas Yojana এর টাকা পাবেন না?

  • ১. কেউ যদি ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, গীতাঞ্জলি, বাংলা আবাস যোজনা বা এই ধরনের যেকোনো প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকেন তবে তিনি নতুন করে কোন সুযোগ পাবেন না।
  • ২. যে সমস্ত ব্যক্তিদের পাকা বাড়ি আছে তারাও এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন না।
  • ৩. আড়াই একরের বেশি জমি বা বাণিজ্যিক কৃষিজমি থাকলে তাকেও তালিকাভুক্ত করা হবে না
  • ৪. পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায় এমন কিষান ক্রেডিট কার্ড(Kisan credit card) যাদের আছে, তারা আবাস যোজনার টাকা পাবেন না।
  • ৫. যন্ত্র চালিত নৌকা, কৃষিকাজে ব্যবহৃত দামী সরঞ্জাম থাকলেও তিনি যোগ্য নন।
  • ৬. বাড়িতে ল্যান্ড ফোন, ফ্রিজ, মোটরবাইক থাকলে তিনি এই সুবিধা পেতে পারবেন না।
  • ৭. মাসিক ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করলে বা ইনকাম TAX দিলে তারাও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

পশ্চিমবাংলায় আবাস যোজনা প্রকল্পে প্রায় ৪৯ লক্ষ ২২ হাজার উপভোক্তা নামের তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। কেন্দ্র সরকার থেকে ১১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৮৮ জনকে বাড়ির দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন ভুয়া নাম থাকলে বাদ পড়বে, কারো সুপারিশ নেওয়া চলবে না। সিংহভাগ নাম বাদ গিয়ে 11 লক্ষ 36 হাজার 488 জনের নাম বরাদ্দ হবে।
আশা কর্মী ,অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ,এবং সিভিক ভলেন্টিয়াররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই তালিকার মধ্যে ১০ শতাংশ ভেরিফিকেশন করছেন ভিডিও বা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক। পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে যাতে কোনরকম গলদ না থাকে সেই জন্য খুব ভালোভাবেই চলছে কাজ। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ