Join Whatsapp Group(38) Join Now

পরীক্ষার আগে মানসিক চাপ কমানোর উপায়, এগুলো জেনে নিন

প্রাই বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীদের কাছেই পরীক্ষার দিনটি ত্রাসের। অতিরিক্ত প্যানিক ও চিন্তা করেই কেটে যায় পরীক্ষার আগের মুহূর্তগুলো। অনেকে প্রস্তুতির চিন্তায়, অনেকে প্রশ্নপত্রের ডিফিকাল্টি লেভেলের(Difficulty Level) চিন্তায় মাত্রাতিরিক্ত আতঙ্ক করেন। অতিরিক্ত চিন্তা ও আতঙ্কর ফলাফল খারাপ হতে পারে পরীক্ষা। বিশেষজ্ঞদের(Experts) নিয়ম মানলে এই টেনশন কিছুটা হলেও কম হতে পারে বা সম্পূর্ণটাও চলে যেতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে যতটা ভালো পরীক্ষা দেবার কথা একজন ছাত্র ছাত্রীর পক্ষে, শুধুমাত্র টেনসন এবং প্যানিকের কারণেই রেজাল্ট তার থেকে খারাপ হয়ে যায়। প্রস্তুতি ভালো হলেও পরীক্ষার আগের মুহূর্তে একটা টেনশন সকলেরই হয়ে থাকে। অত্যাধিক মানসিক চাপ কারণেও পরীক্ষার ফল খারাপ হতে পারে।

    পরীক্ষার হলে অতিরিক্ত প্যানিক এবং টেনশন করলে জানা এবং সহজ প্রশ্ন ভুল হয়ে যায়। ঠিকঠাক করে গিয়েও অংকের উত্তর মেলানো যায় না। অনেকে জানা অংক ছেড়ে চলে আসেন পরীক্ষার হল থেকে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে স্ট্রেস(Stress) দুই প্রকার। ভালো মানসিক চাপ  এবং খারাপ মানসিক চাপ। ভালো স্ট্রেসের কারণে সিলেবাস সঠিক সময় শেষ হয়, পরীক্ষার সঠিক মুহূর্তে সঠিক জিনিস মনে পড়ে। কিন্তু খারাপ স্ট্রেসের কারণে মাথার মধ্যে সমগ্রটাই যেন ওলট-পালট হয়ে যায়। আর একবার খারাপ পরীক্ষা হলে একটা বছর গোটাটাই নষ্ট হয়ে যায়(Year loss)।

    বিশেষজ্ঞদের মতে এই স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেই প্যানিক এবং টেনশন কমানো যায়। আজকে জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু উপায় যার ফলে পরীক্ষার আগে আপনারা প্যানিক, টেনশন(Tension) ও স্ট্রেস কমাতে পারেন।

    ১. সঠিক সময়ে নোটস জোগাড় করা:

    অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীরা(Students) টিউশন বা স্কুল কামাই করে। এর ফলে সেই নির্দিষ্ট দিনগুলির নোটস(Notes) তাদের কাছে পৌঁছায় না সঠিক সময়ে। পরে বন্ধুদের কাছ থেকে বা শিক্ষক মহাশয়দের কাছ থেকে সেই নোট সংগ্রহ করতে সময় লেগে যায় এবং পড়াশোনার চাপ দ্বিগুণ হয়ে যায়।। স্বাভাবিকভাবেই টেনশন(Tension) বেড়ে যায় মনের মধ্যে। তাই যতটা সম্ভব টিউশন এবং স্কুল কামাই কম করতে হবে এবং করলেও সঠিক সময়ের মধ্যে সঠিক নোটস জোগাড় করে পড়ে, রেডি করে রাখতে হবে।

    ২. সঠিক সময়মতো বিরতি নেওয়া:

    বিশেষজ্ঞদের মতে আমাদের মস্তিষ্ক(brain) একটানা ৪৫ মিনিটের বেশি কোন বিশেষ কাজে মনোযোগ দিতে পারে। অনেক সময় দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীরা ঘন্টার পর ঘন্টা পরে বোরিং ফিল করে। এর ফলে পড়াশোনা মুখস্থ করতে অসুবিধা হয় এবং যার ফল পরীক্ষার খাতায় পড়ে। এইজন্য পড়তে বসে এক ঘন্টা অন্তর অন্তত কিছুটা সময় মস্তিষ্ককে বিরাম দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে কিছু খাবার খাওয়া বা কিছুক্ষণ টিভি দেখে নেওয়া যেতে পারে।

    ৩. পর্যাপ্ত জলপান করা:

    আমাদের শরীরকে সবসময় হাইড্রেট(Hydrated) রাখতে হবে। শরীরে পর্যাপ্ত জলের অভাবে আমাদের মনোযোগ(Attention) কমে যায়। মাথার মধ্যে একটা খিটখিট ভাবও চলে আসে এবং পড়া মুখস্থ হতেও সময় লাগে। প্রতিদিন একজন ছাত্র ছাত্রীর পক্ষে অন্তত ৫ লিটার জল খাওয়া প্রয়োজন।

    ৪. ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া:

    শরীরে ভিটামিন(Vitamin) এবং খনিজ পদার্থের(Mineral) তারতম্যের কারণেও অনেক সময় মানসিক স্ট্রেস বাড়তে পারে। খাবার পাতে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার(Nutrious Food) এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। ঠিকঠাক ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ আমাদের মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে এবং পড়া মুখস্ত করতে, মনে রাখতেও সাহায্য করে।

    আরও পড়ুনঃ

    ৫. পড়ার রিভাইস দেওয়া:

    শুধুমাত্র নোট জোগাড় করে পড়ে মুখস্থ করলেই হবে না। মাঝে মাঝে পুরনো পড়াগুলো একটু ঝালিয়ে(Revise) নেওয়া প্রয়োজন। এর ফলে পুরনো পড়াগুলো মুখস্থ রাখতে সুবিধা হয় এবং পরীক্ষার হলে চিন্তা কম হয়।

    ৬. রাতে শর্ট টাইম রিভাইস দেওয়া:

    সারাদিন যা যা পড়লেন, মুখস্থ করলেন সেগুলো রাতে একবার ঝালিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এমনটা নয় যে বই খাতা খুলে পড়ার মতো করে পড়তে হবে। রাতে শোবার পর নিঃশব্দ পরিবেশে চোখ বন্ধ করে সারা দিনের পড়া সবকিছু এক-দুই মিনিট মত একবার মনে করলেও সেটা মনের মধ্যে তাড়াতাড়ি বসে যায়। এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে পড়াশোনা সহজে মনে রাখা(Remember) যায়।

    ৭. পর্যাপ্ত ঘুম: 

    ভালো রেজাল্ট করার জন্য অনেকেই অনেক রাত জেগে পড়াশোনা করেন। এমনকি পরীক্ষার আগের রাতেও অনেক রাত জেগে পড়াশোনা করে থাকে বহু ছাত্র-ছাত্রীরা। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন এইভাবে রাত জেগে পড়লে লাভের বদলে বরং ক্ষতিটাই বেশি হয়। অতিরিক্ত রাত জাগার ফলে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত স্ট্রেস পরে। আর এস ট্রেসের কারণে পরীক্ষার সময় ফল খারাপ হয় এবং অহেতুক আশঙ্কার করে টেনশন হয়।। এজন্য পরীক্ষার আগের রাতগুলোতে এবং পরীক্ষা চলাকালীন রাতগুলোতে পর্যাপ্ত ঘুমের(proper sleep) প্রয়োজন ছাত্রছাত্রীদের। এই বিষয়ে গার্জিয়ানদেরও সতর্ক হওয়া উচিত।

    ৮. সময় বুঝে লেখা: 

    পরীক্ষার মোট সময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমগ্র প্রশ্নের(Question paper) উত্তর লেখা সম্পূর্ণ করাটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় দেখা যায় পরীক্ষার সময় শেষের দিকে কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক প্রশ্ন লেখা বাকি, এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্যানিক(panic) করেন ছাত্র-ছাত্রীরা। বাড়িতে অবশ্যই মক টেস্ট(Mock test) এবং ফুল টেস্ট(full test) দেওয়া প্র্যাকটিস(practise) করতে হবে যাতে করে পরীক্ষা হলে সময় মতো সমস্ত প্রশ্ন সমাধান(solve) করা যায়। পরীক্ষার হলে বেশি তাড়াহুড়ো করলে জানা প্রশ্ন মাথা থেকে বেরিয়ে যায় এবং সঠিক জিনিসও লেখার সময় ভুল হয়ে যায়।

    ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অবশ্যই নিজেদের মাথা ঠান্ডা করে পরীক্ষার হলে যেতে হবে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে(Exam centre) পৌঁছানো আবশ্যিক নয়তো 'দেরি হয়ে গেছে' এই চিন্তায় তারা তাড়াহুড়ো করে ফেলেন এবং পরীক্ষার উত্তরপত্রে ভুল ভ্রান্তির সংখ্যা বেড়ে যায়।

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    0 মন্তব্যসমূহ