Join Whatsapp Group(38) Join Now

দ্রুত নতুন চাকরি পেতে হলে কি কি করবেন? মাথায় রাখুন এই 5টি জিনিস



কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়তই কিছু না কিছু পরিবর্তন হয়েই চলেছে। কোভিড(Covid) শুরু হবার সময় থেকেই কর্মক্ষেত্রে বিপুল পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন কোম্পানিগুলি তাদের মুনাফা বজায় রাখতে প্রচুর সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করেছে। 

তাদের মধ্যে অনেকে আজও ঠিকঠাক মনের মত চাকরি যোগাড় করতে পারেনি। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে গেলে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। বেসরকারী চাকরি(Non government job) করতে গেলে এই উপায়গুলো সত্যিই  কার্যকর, চাকরি পেতে হলে মেনে চলতে হবে বেশ কিছু নিয়ম।

কিভাবে আপনি কাজ পেতে পারেন তাই নিয়ে নিচে রইলো বেশ কয়েকটি নিয়ম।  ২০২৩ সালে দ্রুত চাকরি পেতে এই তথ্যগুলো আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

১. দক্ষতা বাড়ান এবং নিজেকে আপডেটেড করুন।


বিভিন্ন কোম্পানি নিয়োগের ক্ষেত্রে ফ্রেশারদের(Fresher) বদলে অভিজ্ঞ কর্মীদের(Experinced employee) নিয়োগ করতে চায়। এজন্য বেসরকারি চাকুরি ক্ষেত্রে দেখা যায় দক্ষ মানুষদেরই নিয়োগ করা হয়। এখন চাকরির ক্ষেত্রে একাধিক ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

দ্রুত চাকরি পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমেই আপনার ডিজিটাল দক্ষতাকে উন্নত করতে হবে।

বর্তমানে বেসরকারি সেক্টরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(AI), সাইবার সিকিউরিটি(Cyber security), ডাটা সায়েন্স(Data science), মেশিন লার্নিং, ডিজিটাল মার্কেটিং(Digital Marketing) ইত্যাদি বিষয়গুলো এসেছে। অনলাইনে বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে আপনারা এই সমস্ত বিষয়গুলো রপ্ত করতে পারবেন। 

বিভিন্ন অ্যাপ এবং প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইট থেকে আপনারা এই কোর্সগুলি সম্পূর্ণ করে সার্টিফিকেট(online certificate) হাতে পাবেন। এই দক্ষতা আপনাকে ভবিষ্যতে কোন বড় কোম্পানিতে চাকরি সুযোগ করে দেবে।



২. ইউনিক CV তৈরি করুন

প্রতিটা কোম্পানিতে চাকরির আগে সেই কোম্পানিতে আপনার বায়োডাটা(biodata) দেওয়া একটি বেসিক ব্যাপার। প্রত্যেক কর্মচারী চান  তার বায়োডাটাটি যেন সিলেক্ট করা হয়। তবে অনেক বায়োডাটা জমা পড়লেও সামান্য কিছু বায়োডাটাই সিলেক্ট হয়। নিজেকে ব্যতিক্রমী(Unique) দেখাতে গেলে আপনার রিজিউম একটু বিশেষভাবে তৈরি করতে হবে।

সেখানে আপনার বিশেষ দক্ষতা গুলিকে হাইলাইট(Skill highlight) করতে হবে। আপনি কি কি কোর্স করেছেন, কোন পরীক্ষায় কত নাম্বার ছিল ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশেষভাবে হাইলাইট করে রাখতে হবে।


৩. টেলি কলিং:

অনেক সময় দেখবেন কিছু বড় বড় কোম্পানি যারা আগে অনেক সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করত, তারা বেশ কিছুদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া(Recruitment) বন্ধ রেখেছে। অনলাইনে বা খবরের কাগজে কোনরকম বিজ্ঞপ্তি না দেখতে পেলে গুগল থেকে সেই কোম্পানির নাম্বার নিয়ে ফোন করতে পারেন। তবে সেই নম্বরটি আফিয়াল কিনা সেটি যাচাই করে নেবেন। নতুন কোন ভ্যাকেন্সি(vacancy) আছে কিনা, বা ভ্যাকেন্সি কবে বেরোবে - ইত্যাদি বিষয়গুলি আপনি ফোন করে জানতে পারবেন।

ভ্যাকেন্সি থাকলে কোম্পানির নির্দিষ্ট মেলে আপনার রিজিউম(Resume) টি পাঠিয়ে দেবেন। বা কলের অপরপ্রান্ত থেকে যেমন নির্দেশ দেওয়া হবে তেমনটি ফলো করতে হবে।

৪. ইন্টার্নশিপ এবং পার্ট টাইম জব:

অনেক কোম্পানি তাদের কর্মক্ষেত্রে নতুন ইন্টার্ন(intern) নিয়োগ করে থাকে। অনেক চাকুরী প্রার্থী মনে করেন যে ইন্টার্নশিপ(internship) করার পরে হয়তো তাদের আর চাকরি থাকবে না। বা ইন্টার্নশিপের মেয়াদ পেরোলে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। পার্ট টাইম জবগুলোর ক্ষেত্রেও অনেকে একই ধারণা পোষণ করেন।


বড় বড় যে কোম্পানিগুলি নতুন ইন্টার্ন নিয়োগ করে থাকে, তারা সেই ইন্টার্নদের মধ্যে সেরা ব্যক্তিদের পার্মানেন্ট(permanent job) কাজে রেখে দেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। তাই কোনো কোম্পানিতে ইন্টার্নশিপ করলে আপনার ১০০ ভাগ দিয়ে চেষ্টা করুন।


পার্মানেন্ট কর্মীদের তালিকায় আপনার স্থান না হলেও, ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে আপনি যে জ্ঞান অর্জন করেছেন সেটি এবং সেখান থেকে পাওয়া সার্টিফিকেটটি ভবিষ্যতে আপনার কাজে লাগবে।


৪. কেরিয়ার সাইট এবং জব ফেয়ার:

বিভিন্ন ওয়েবসাইট(Website) আছে যেখানে নিয়মিত চাকরির খবর প্রকাশিত হয়। সেই সমস্ত ওয়েবসাইটের দিক নজর রাখলে চাকরির দৈনন্দিন আপডেট পেতে পারেন। এছাড়াও সরকারি উদ্যোগে বা কোন কলেজের উদ্যোগে জব ফেয়ার(Job fair) অনুষ্ঠিত হয়।


বিভিন্ন কোম্পানিগুলি সেখানে প্রার্থীদের ইন্টারভিউ নেবার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ করে থাকে। কোথাও জব ফেয়ার হচ্ছে কিনা জেনে নিয়ে, কোন কোন কোম্পানি সেখানে আসবে তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে যোগ দিতে পারেন সেখানে। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড এবং কাজের ব্যাপারে কিছুটা রিসার্চ(research) করে নেওয়া প্রয়োজন।

আপনার দক্ষতা থাকলে এবং ভাগ্য ভালো থাকলে জব ফেয়ার থেকে সরাসরি চাকরি পেয়ে যেতে পারেন।


৫. নেটওয়ার্কিং:

কর্পোরেট জগতে(Corporate sector job) চাকরি করতে হলে নিজের একটা নেটওয়ার্ক থাকা জরুরী। আপনার নেটওয়ার্ক যত ভালোভাবে ততই মসৃণ হবে আপনার চাকরি পাওয়ার পথ। কাছের বন্ধু , আত্মীয়-স্বজন, স্কুল-কলেজের বন্ধুদের নিয়েই একটি ভালো নেটওয়ার্ক তৈরি হতে পারে। কখন কোন সংস্থা কর্মী নিয়োগ করছে ,কোথায় কাজ করলে সুবিধা হবে, ইত্যাদি বিষয়গুলো আপনি আপনার নেটওয়ার্কের থেকে সহজেই জেনে নিতে পারবেন।

দ্রুততার সাথে চাকরি পেতে হলে আপনার স্কিল উন্নত করুন, বাৎসরিক প্যাকেজকে কখনোই ফোকাস করবেন না। চাকরি এবং কেরিয়ার নিয়ে স্পষ্ট একটা ধারণা তৈরি করুন।

নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরির আবেদন করুন। দুমদাম যেকোনো কোম্পানিতে চাকরির দরখাস্ত করবেন না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ