বছরে দু'কোটি টাকা মাইনের চাকরি! এমন খবর এলে কোন পরিবারের না গর্ব হবে! বীরভূমের রামপুরহাটে বিশাখ মন্ডলের পরিবারে এখন খুশির হাওয়া। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে ফেসবুক এবং গুগল দুই কর্তৃপক্ষ থেকেই চাকরির অফার পেয়েছেন তিনি। রীতিমতো ফেসবুক এবং গুগলের মধ্যে দরকষাকষি শুরু হয়ে গিয়েছে বিশাখকে নিয়ে।
নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে বিশাখ। ছোট থেকেই সে অত্যন্ত মেধাবী। ছোট থেকে মাকে কষ্ট করে তাকে বড় করতে দেখেছে সে। তার মা তাকে কখনো জোর করেননি যে চাকরি পেতেই হবে, বরঞ্চ তাকে শিখিয়েছেন ভালো মানুষ হওয়া।
Read more:
মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, থাকেন যাদবপুরে ভাড়া বাড়িতে। বাবা মুর্শিদাবাদে থাকেন, কৃষিকাজ করেন। ছোট থেকে এই অব্দি লড়াইতে আশেপাশে পেয়েছে তার মাকে এবং তার দিদাকে। প্রধানত তার মা নিজের একা হাতেই ছেলেকে মানুষ করেছেন। বিশাখ এর এই সাফল্য দেখে যেতে পারল না তার দিদা, গত নভেম্বর মাসেই তিনি প্রয়াত হয়েছেন।
রামপুরহাটের জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন থেকে পাস করেন তিনি। এরপর যাদবপুর থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পাস করেন। পরিবারের হাল ধরতে তিনটি কোম্পানির সাথে ইন্টার্নশিপ করেছেন। তিনটি কোম্পানির মধ্যে একটি কোম্পানি হলো অ্যামাজন।
তারই মধ্যে একই সাথে অনেকগুলি কোম্পানিতে চাকরির অফার পেয়ে উচ্ছ্বাসিত তিনি। বিশাখ বলেন, ফেসবুক দেবে ১ কোটি ৮৩ লাখ, গুগল দিচ্ছে ১ কোটি ৪০ লাখ আর অ্যামাজন হলে ওটা ১ কোটি ১৩ লাখ।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। কিছুদিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় 10 জন ছাত্র বার্ষিক এক কোটি টাকার ওপরে মাইনের চাকরি পেয়েছেন। কিন্তু বিশাখ এর ক্ষেত্রে সেই অংকটা প্রায় দ্বিগুণ। স্বাভাবিক ভাবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও খুশির হাওয়া।
রামপুরহাটের বিশাখ এখনো নিশ্চিন্ত হতে পারেনি যে তিনি গুগল নাকি ফেসবুক কোন দিকে যাবেন। তবে ফেসবুক জানিয়েছে তারা বার্ষিক মাইনে দু'কোটি অব্দি বাড়িয়ে দিতে পারবে। পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে সে হয়তো ফেসবুকে যোগদান করতে পারে। সেক্ষেত্রে তার কর্মস্থল হবে লন্ডন।
বিশাখ এর মায়ের বর্তমানে মাসে ১৮ থেকে কুড়ি হাজার টাকা আয়। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী হিসেবে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাচ্চাদের স্বাস্থ্য,চিকিৎসা ইত্যাদি নিয়ে তথ্য জোগাড় করা তার কাজ। তিনি জানিয়েছেন ছেলে এত টাকা মাইনের চাকরি পেলেও তিনি তার কাজ ছাড়বেন না। তার কাজ তার স্বাধীনতা।
তিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিবেকানন্দ স্কলারশিপের টাকাটা না পেলে তার ছেলের হয়তো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াটা সম্ভব হতো না।
এছাড়াও বিশাখ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার কলেজের শিক্ষক মন্ডলী এবং সহপাঠীদের। তারই সঙ্গে তার সাফল্যের পেছনে বড় অবদান তার বন্ধুদেরও আছে একথাও তিনি জানিয়েছেন।




0 মন্তব্যসমূহ
কোনোরকম জিজ্ঞাসা বা মতামত থাকলে কমেন্ট করুন....