পড়াশুনোর পাশাপাশি উপার্জনের ৫টি উপায়- Exam365 Bengali
আজকের দিনে ছাত্রজীবনে উপার্জন করা খুবই সহজ হয়ে গেছে। ছাত্র/ছাত্রী জীবনে হাজার হাজার অর্থ উপার্জন অনেকে করে।
পড়াশুনোর পাশাপাশি কি করা যায়? এরকম প্রশ্ন থাকলে আপনাকে অবশ্যই বলবো পোষ্টটি পুরোটা পড়ুন....
ছাত্র অবস্থায় ইনকাম কর সহজ? উত্তর হ্যাঁ সহজ। তবে কোনো কাজই কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সম্ভব না। আজকে আমি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনোর পাশাপাশি ৫ টি অর্থ উপার্জনের পন্থা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
সময় থাকলে সম্পুর্ন পোষ্টটি পড়তে বলবো,কারন দারুন উপকৃত হতে পারবেন যদি আপনি একজন ছাত্র/ছাত্রী হন।
ছাত্রছাত্রীদের উপার্জনের উপায়গুলি:-
1) প্রাইভেট টিউশনি করা:-
যখন আমি কলেজে ছিলাম তখন আমি টিউশনি করে নূন্যতম মাসিক 10 হাজার টাকা উপার্জন করেছি।
টিউশনি শুরু করতে হবে প্রথমদিকে ছোটো ক্লাসগুলি দিয়ে তারপর ধিরে ধিরে বড়ো ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো শুরু করতে হবে। আপনি যে এলাকাতে পড়াতে চায়ছেন সেখানকার মানুষদের সাথে আপনি টিউশনি পড়ান সেই কথাগুলি শেয়ার করুন।
এলাকাতে একটি A4 Size পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা জোগাড় করা সম্ভব। প্রথম বছর 10 জন ছাত্রছাত্রীদের নিয়েই শুরু করুন। পরের বছর ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বাড়বে নিশ্চিত যদি আপনার পড়ানো ছাত্রছাত্রীদের ভালো লাগে।
এভাবে যদি ৩০ জন ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো যায় তাহলে প্রচুর উপার্জন সম্ভব পড়াশুনো চলাকালীন। ধরুন 500 টাকা মাসিক হলে 30 জন ছাত্রছাত্রীদের জন্য 30* 500= 15,000 K/Month উপার্জন সম্ভব।
2)ইউটিউবে ভিডিও বানানো:-
আজকের দিনে অধিকাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তাদের মধ্যে সকলেই ইউটিউবে ভিডিও দেখেন। আর সেজন্য বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য ইউটিউব অসাধারণ একটি প্লাটফর্ম অর্থ উপার্জনের জন্য।
যারা ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড করে,তাদের ভিডিওতে অ্যাড দেখিয়ে অর্থ প্রদান করে ইউটিউব । আজকের দিনে বহু মানুষ ইউটিউব থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছে। কেও কেও লাইফটাইম ক্যারিয়ার ধরে নিয়েছে ইউটিউবকে। পার্টটাইম কাজ করেও ভালোরকম অর্থ উপার্জন সম্ভব।
ধরা যাক আপনার টেকনোলজি নিয়ে ভালো ধারনা আছে,সেক্ষেত্রে আপনি টেকনোলজির ভিডিও বানাতেই পারেন। এককথায় মানুষকে শেখানোর মতো যদি কোনো প্রতিভা আপনার থাকে তাহলে আপনার জন্য সেরা প্লাটফর্ম ইউটিউব।
3)ব্লগিং /ওয়েবসাইটের মাধ্যমে উপার্জন:-
ব্লগিং/ওয়েবসাইটে কাজ করার জন্য আপনাকে লেখালেখি করতে জানতে হবে। ঠিক যেমন বর্তমানে আপনি আমার লেখা পড়ছেন। আপনার যে বিষয়ে ভালোরকম নলেজ আছে, সেবিষয়ে লেখা শুরু করুন। লেখাগুলো আপনার ওয়েবসাইটে পোষ্ট করুন।
তারপর গুগুল অ্যাডসেন্স এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট থেকে অর্থ উপার্জন করুন। যদি আপনার ওয়েবসাইট প্রচুর মানুষের কাছে পৌছায় তাহলে আপনি সরকারি চাকরির থেকেও বেশি উপার্জন করতে পারবেন। তবে নিষ্ঠার সাথে কোনো ছাত্রছাত্রী কাজ করলে অসাধারণ উপার্জন করতে পারবে অনায়াসে। আসল কথা হলো কঠিন পরিশ্রম ছাড়া সম্ভব না।
4) গ্রাফিক্স ডিজাইন:-
আজকের দিনে স্কিল শিখে রাখলে ভাতের অভাব হয়না। কথাটা সম্পুর্ন সত্যি। গ্রাফিক্স ডিজাইন যারা ভালো করে শেখে তাদের মাসিক ইনকম প্রচুর।
গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ বাড়ি বসেই করা যায়। বিদেশী ক্লায়েন্টদের কাজ করে দিতে পারলেই মোটা উপার্জন করা সম্ভব। fiveer,freelancer etc সবথেকে জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য।
5) সোসালমিডিয়া ম্যানেজার:-
বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম,ফেসবুক,টুইটারের মতো সোসালমিডিয়া সাইটগুলিতে কর্পোরেট সেক্টর,বিভিন্ন সংস্থা,সেলিব্রিটিরা বেশ সচল। কারন বর্তমানে কম পরিশ্রমে সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচুর মানুষের মাঝে পৌঁছানো সম্ভব।
বড়ো বড়ো কম্পানির ফেসবুক পেজ/ইনস্টাগ্রাম পেজ নিশ্চয়ই ওই কম্পানির সিইও(CEO) নিমন্ত্রন করেনা।এই বিশেষ কাজের জন্য একজন /একাধিক লোক রাখা থাকে।
সোসাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট হলো আপনাকে শুধুমাত্র জনপ্রিয় সোসাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্টগুলির পরিচালনা,সামান্য এডিটিং এর কাজ জানতে হবে। এর জন্য আলাদা কোর্স না করাই ভালো। ১ মাস নিজে নিজে পেজ সম্পর্কে ধারনা করে নিয়ে কোনো সেলিব্রিটির পেজে,কম্পানির পেজগুলোতে কাজ করার সুযোগ আপনিও পেতে পারেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি কি করে জানবেন
কারা? এবং কবে? এই পদের জন্য নিয়োগ করছে...গুগুল মামা থাকতে অসুবিধা কিসের?
এছাড়াও কখোনো কখোনো বড়ো ফেসবুক পেজে পোষ্টের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হয়। সেইজন্য একটু খোজখবর রাখতে হবে।
শেষ কিছু কথা:-
ছাত্রছাত্রীর স্কুল/কলেজ জীবনে হাত খরচ একটা বিরাট অসুবিধার বিষয়। "স্কিল" থাকলে হাতখরচের অসুবিধা চিরতরে দূর হবে এটাই সত্যি। আমি ছাত্রছাত্রীদের উপার্জনের ৫টি উপায় এই পোষ্টে আলোচনা করলাম। আশা করছি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনোর পাশাপাশি উপার্জনের পথ দেখাতে পারলাম।
0 মন্তব্যসমূহ
কোনোরকম জিজ্ঞাসা বা মতামত থাকলে কমেন্ট করুন....